মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর জেরে দ্বিতীয় দিনের মতো সারাদেশে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। রাজধানী থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তবে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাস বন্ধ হলেও সিএনজিচালিত বাস কেন ধর্মঘটে গেল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক যাত্রী।
সরকার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছে। কিন্তু এই দফায় অন্য কোনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি।
ঢাকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অনেক বাস সিএনজিতে চললেও সেগুলোও সড়কে দেখা যাচ্ছে না।
অফিসগামী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যারা বেরিয়েছেন, তাদের মোটরসাইকেল, অটোরিকশা কিংবা রিকশায় বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, গুণতে হচ্ছে বেশি ভাড়া। অনেকে হেঁটেও পথ ধরেন।
ভোর থেকে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোয় অনেক যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
যাত্রীদের দাবি, রাজধানীর বাইরে যেতে খরচ হচ্ছে ৮ থেকে দশগুণ বেশি ভাড়া। রাজধানীতে যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া।
বিভিন্ন সড়কে বাস না পেয়ে রিকশা, সিএনজিতে বাড়তি ভাড়ায় চলতে হচ্ছে লোকজনকে। রাজধানীতে বিআরটিসি বাস না পাওয়ারও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
মোহাম্মদপুর, এলিফ্যান্ট রোড, পল্টন, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন রাস্তায় বিআরটিসির বাস ছাড়া আর কোনো বাস ছিল না। সড়কে রিকশা, সিএনজি, ব্যক্তিগত গাড়িরই জট বেশি।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ ট্রাক-কভার্ড ভ্যান ড্রাইভার ইউনিয়নও দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার ভোর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।
আজো কোনো জেলা থেকেই ছেড়ে যায়নি যাত্রীবাহী বাস। এতে চাপ বেড়েছে ট্রেনের ওপর। এদিকে, ধর্মঘটের প্রভাবে বন্দরে পণ্য আনা-নেয়া ব্যাহত হচ্ছে।
বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বাজারে কমে গেছে সবজির দাম। এতে লোকসানের আশঙ্কায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী প্রতি ১০ টাকা এবং দূরপাল্লার লঞ্চে ডেকের যাত্রী প্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, বাস বন্ধ থাকায় রেলস্টেশনে দূর-দুরান্তের যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন অনেকে।